বেড়ানোর বাসনা বারবার টানে প্রবাহিনীর পাড়ে, স্রোতস্বিনীর ধারে। শীতের সকালে,
গরমের বিকেলে কিংবা বর্ষার দুপুরের গাঙ্গেয় গরিমা হৃদ-বারান্দায় স্থায়ী ছাপ ছেড়েছে। জোয়ার-ভাটার খেলা, সাধুসন্তের মেলা, ভবঘুরের হাসি, ফেরিওয়ালার বাঁশি – বৈচিত্র্যের উঠোনজুড়ে যার যেদিকে মন চায়, সেদিকেই দৃষ্টি ফেরায়। আট থেকে আশি, রাজন বা সন্ন্যাসী, V.C. থেকে ঋষি সকলের সঞ্চলনের মুক্তাঞ্চল।
নাগরিক ক্লান্তিতে, শ্রমিকের শ্রান্তিতে নদীর মতো নিঃশুল্ক নিরাময় নেই। অনুদার দুনিয়াদারী, মেপে চলা সংসারী, আশাহীন বার্ধক্য, দিশাহীন যৌবন – সকলেরই খানিক ভিন্নমনস্ক হওয়া, সহনশীল রওয়া, ফের সংগ্রাম সাধার সহজ বাফার জোন। উত্তেজনা রোধে, ভালোলাগার বোধে, চিত্তের বিকাশে দরিয়ার মতো দিলদার কমই আছে। ছেলেবেলায় গাঙপাড়ে যাব, গরম চা খাব, শানের উপর বসা, পায়ে পানির ঘষা-নৈমিত্তিক ঝোঁক ছিল, কিছু মায়া আজও বহমান। মাধ্যমিকের কালে, নদী সন্দর্শনে বারকয় হাইরোডে হারিয়েছি, অবশেষে পেয়েছি, প্রেমে পড়েছি। যা নৌকায় রান্না, প্রিয়হারার কান্না, স্টিমারের বাঁশি, জলে ঝাঁপানোর হাসির শব্দ-গন্ধ-স্পর্শ-দৃশ্যপটএর অবিস্মরণীয় কোলাজে পূর্ণ। দেহ মনের সংযোগ সাধনের পীঠস্থান।
নদী সচেতনতার সহজপাঠ। তার পরিক্রমা শেখায় বোধন-বিসর্জন, উত্থান-পতন, রূপান্তরের পর্যায়ক্রমিক প্রবাহ । আসা-যাওয়ার মাঝে, নিত্যদিনের কাজে প্রীতির দেওয়া-নেওয়া, মঙ্গলগীত গাওয়া। জীবন হোক নদীর মতোই গতিশীল, আলোকময়, অংশগ্রহণকারী। তাই ফিরে ফিরে আসি….প্রকৃতির অমূল্য উপাদান নদীর কাছে, যা প্রবাহ, শান্তি, গভীরতা, পরিবর্তনের প্রতীক। মনোযোগের নিরবচ্ছিন্ন ধারাপ্রবাহ, চিত্তকে শান্ত রাখার অনুশীলন, পরিবর্তন মানার সহজ ক্ষমতা, জীবনের যাত্রা ও গ্রহণযোগ্যতার ধ্রুপদী শিক্ষাদাত্রীকে শ্রদ্ধা। আর হ্যাঁ, নদীকে ভালবাসার দায়িত্ব থেকেই যায়…





