জীবন জুড়ে আমাদের আধারে যে মনি মানিক্য জমে, তার কোহিনুর হলো বন্ধুত্ব। দলবেঁধে খেলা, সারিসারি চলা, একসাথে খাওয়া, কোরাসে গান গাওয়া। পুজোয় রাত জেগে ঘোরা, দোলে আবির রঙ ছোঁড়া; সিনেমা হলের মজা, নাটকে হাতি-ঘোড়া সাজা। জেতার জলসায়, হারানোর বেদনায় বন্ধুর থেকে ভালো কাঁধের বিকল্প কমই আছে। বিশ্বাসের ভিতের উপর দাঁড়ানো সহযোগিতার পিলার, সেখানে আনন্দের জানালা দিয়ে সহানুভূতির আলো এসে পড়ে। ঝড়ের রাতে, খুশির প্রাতের স্মৃতিগুলো যাদের সাহচার্যে ‘রূহ আফজা’ আত্মার শান্তি।
মহাভারতের কৃষ্ণ-সুধামার সখ্যতা, সেখানে দারিদ্র বন্ধুত্বে বাধা হয়নি। হ্যারি পটার- রন- হারমায়োনির বিপদের মুখে একত্রতা, দ্য লর্ড অব রিঙয়ের স্যাম-ফ্রোডোর যুগ্মতার দৃঢ় মুষ্টি, ভালোবাসার সুধাবৃষ্টি। কেউ ভোলে না ‘লায়ন কিং’-এ টিমন-পুম্বার সেই বিখ্যাত স্লোগান ‘হাকুনা মাটাটা’ যা ফুর্তিতে থাকা, টেনশন ফ্রি ফিলোসফির বেসিক ফান্ডা অর্থাৎ বন্ধুত্বে বসবাস। যখন ঘরহারা সিম্বা নিজের পরিবারের শোক ভুলতে চায়, তখন টিমন, পুম্বা তারজন্য এক ঝলমলে দিগন্ত উন্মোচন করে। তাকে শেখায় কিভাবে জীবনানন্দে থাকতে হয়। শেষ সংগ্রাম সিম্বা জেতে, পাশে থাকে সুখ-দুঃখের সাথীরা।
মিত্রতায় সচেতন থাকা সর্বাগ্রে জরুরী। সক্রিয় শোনা, বক্তব্যের যথাযথ প্রতিফলন, আনুকূল্য প্রকাশের পাশাপাশি ঋনাত্মক ভাবনার দূরত্ব রাখাও জরুরী। মোবাইল মায়া মনোযোগে ঘাটতি আনে। ভুল বোঝাবুঝি, অবিশ্বাস, অবহেলা, অহংকার, স্বার্থপরতায় অনেক দোস্তি খতম হয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগের অভাবে সংযোগসূত্র ছিঁড়ে যায়। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তায় শান দেওয়ার শিক্ষা শৈশব থেকেই মানবশিশুর পাওয়া প্রয়োজন। নিজের আবেগ চিনে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বন্ধুত্ব গড়ার কাজটি সহজ হয়ে যায়। দলবদ্ধ জীবের সমাজে চলাচল করতে গেলে এটুকু লাগবেই, নইলে ম্যানুয়াল না পড়ে রাস্তায় গাড়ি চালালে যা ঘটার সেটাই ঘটবে। বন্ধুত্বর ক্ষতি বড় ক্ষতি।
মৈত্রীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। ভালো সখা শোনে, বোঝে, তারপরে সমানুভূতির সাথে বোঝায়। আলোর অভিমুখে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোয়, ইতিবাচক চালানোয় বন্ধুরাই সঞ্জীবনী সুধা। সুস্থ মন গড়ে ওঠে মিত্রবর্গের হাত ধরেই। আর দোস্ত পেতে হলে আগে দোস্ত হতে হবে। বন্ধুত্বই জীবনের সবচেয়ে রঙিন ফুল।





