ইনসানি দুনিয়ায় পবন-পানি, আহার-নিদ্রার মতো সম্পর্কও জীবনদায়ী। সামাজিক জীবের এ এক আবশ্যিক পাঠ্য। ব্যক্তিক, লৌকিক, পেশাগত হরেক সংযোগসাধনে সহানুভূতি, সহযোগিতা, সম্মান এর অধ্যায়গুলো আত্মস্থ করতে হয়। যেমন খোলামেলা কথা বলা, ভালোবেসে সাথে চলা; দায়িত্বের হাতটি ধরা, পাশে থেকে কাজটি করা। ফলাফলে হাইস্কোরের হকদার হৃদয়ের শিল্পীরা। পারস্পরিক বোঝাপড়ার ঘাটতির বিপদ নিত্য সংবাদ শিরোনামে ঝুলছে।
সম্প্রতি সংযোগ, সমন্বয়, সন্নিবিষ্ট সংক্রান্ত আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা শিক্ষায় ফাঁক রয়ে গেছে। নম্বর-মাইনে চাকরির চাপ-চক্করে জীবনের আরেকটি বড়ো ক্ষেত্রকে আমরা উপেক্ষা করছি। ইদানিং মনের কথা বলব কারে, ব্যস্ত সবাই নিজের তরে। ফলে সংসার সামিয়ানার তলে, দাম্পত্যের কোলাহল চলে। অহোরহ অপেক্ষা-উপেক্ষা, মোহ-মায়া, প্রতিশ্রুতি-পলায়ন, দ্বিধা-দ্রোহে, দ্বন্দ্বপূর্ণ শরিক-সমাজ। মনের ভাবটি এমনতর, যে ঘরে বাইরে সবাই পর। একাত্মতা, সংযোগ সব সোশ্যাল মিডিয়ায়। ডিজিটাল আসক্তির ফাঁদে, প্রকৃত জীবন কাঁদে। অজান্তেই সময়, সম্পর্ক, সৃজনশীলতা, শান্তি শেষ। তারপরে জোটে অহেতুক রাগের বিড়ম্বনা। লোকের আত্মসম্মানবোধ, আত্মমর্যাদা, ইগো সবকিছু বেরোনোর রাস্তাই যেন ক্রোধ। নিজে জ্বলে, পরে জ্বালায়। কত সঙ্গ শেষের মূলে রোষানল। ধনুকে ছাড়া বান আর রাগে বলা বাক্য দুটোই ফেরত আসে না। ব্যক্তি প্রশংসা ভুলতে পারে, অপমান নয়। তারপর ঈর্ষা, হিংসা, হতাশা, উদ্বেগের আগমনে যৌথযাপনের সমূহ বিনাশ।
আসলে সুস্থতা আর সম্পর্ক একই মুদ্রার ভিন্নপিঠ। মানসিক সুখ-শান্তি সবই মেলে সুসম্পর্কের সাহচর্যে, আবার উল্টোটায় আসে বিষণ্ণতার বারমাস্যা, কোলাহলের কলরব, অবসাদের একশেষ। আবেগের অতিশয্যে আক্রমণ করা-আক্রান্ত হওয়া, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থতার অনেকটাই ঘটে আক্কেলের অভাবে। মহব্বত, মেহেরবানি, মতৈক্য মানসিক স্বাস্থ্যের ভিত গড়ে দেয়, যাতে মনন, অনুভূতি, আচরণে ভারসাম্য আসে। দশের লাঠি একের বোঝা; সবে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ; একতাই বল, একা বোকার প্রবচনগুলো অল্প বিস্তর শুনলেও মানছি কই! ‘সকলের তরে সকলে আমরা’র ভাবনায় একটু মনোযোগী হলে পৃথিবীটা অনেকটা আলোকিত হয়। আর অন্যকে টানলে, সেও টানবে।





